গুঁড়ামসলা তৈরি ও প্যাকেটজাতকরণ

উন্নত উপায়ে বিভিন্ন রকমের মসলা গুঁড়া করে বাজারজাত করতে পারলে লাভবান হওয়া সম্ভব। রান্নার কাজটি দ্রুত ও ঝামেলাহীনভাবে শেষ করার জন্য বর্তমানে বাটা মসলার জায়গায় গুঁড়া মসলার ব্যবহার বাড়ছে। এর মধ্যে জিরা, ধনিয়া, হলুদ, মরিচ, গরম মসলা ইত্যাদি অন্যতম। কাঁচামাল ভালোভাবে রোদে শুকিয়ে মেশিনে গুঁড়া করে উন্নত উপায়ে প্যাকেটজাত করতে পারলে এ ব্যবসার মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব।

গুঁড়া মশলা তৈরি ও প্যাকেটজাতকরণ 


 জীবন ও জীবিকার তাগিদে মানুষ বিভিন্ন ধরণের আয় উপার্জনমূলক কাজের সাথে জড়িত। এর মধ্যে গুঁড়া মসলার ব্যবসা অন্যতম। উন্নত উপায়ে বিভিন্ন রকমের মসলা গুঁড়া করে বাজারজাত করতে পারলে লাভবান হওয়া সম্ভব। রান্নার কাজটি দ্রুত ও ঝামেলাহীন ভাবে শেষ করার জন্য বর্তমানে বাটা মসলার জায়গায় গুঁড়া মসলার ব্যবহার বাড়ছে। এর মধ্যে   জিরা, ধনিয়া, হলুদ, মরিচ, গরম মসলা ইত্যাদি অন্যতম।

  •  বাজার সম্ভাবনা 
  •  মূলধন 
  •  প্রয়োজনীয় উপকরণ, পরিমাণ, মূল্য ও প্রাপ্তিস্থান 
  •  গুঁড়া মসলা তৈরি ও প্যাকেটজাতকরণের নিয়ম 
  •  আনুমানিক আয় ও লাভের পরিমাণ 
  •  সচরাচর জিজ্ঞাসা

বাজার সম্ভাবনা 

বর্তমানে গুঁড়া মসলার চাহিদা আগের তুলনায় বেশ বৃদ্ধি পেয়েছে। পাইকারি দরে বিভিন্ন রকমের মসলা কিনে পরিষ্কার পরিছন্নভাবে গুঁড়া করে উন্নত উপায়ে প্যাকেট করে বাজারজাত করতে পারলে লাভবান হওয়া সম্ভব। এছাড়া মসলার মান ভালো হলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি করা যেতে পারে। গুঁড়া মসলা তৈরির পর বিভিন্ন উপায়ে সেগুলো বাজারজাত করা যায়। যেমন :

  1. মুদি দোকানে সরবরাহ করা যেতে পারে।
  2. অনেক সময় ক্রেতা বাড়িতে এসেই কিনে নিয়ে যেতে পারে।
  3. নিজের তৈরি পণ্যের প্রচার চালানোর জন্য প্রথমে প্রতিবেশীদেরকে জানানো যেতে পারে, স্থানীয় দোকানীর সাথে যোগাযোগ করা যায়। আবার পণ্যের বর্ণনা করে লিফলেট তৈরি করেও বিলি করা যেতে পারে।

 

মূলধন 

আনুমানিক ৭০০০-৮০০০ টাকা মূলধন নিয়ে গুঁড়া মসলার ব্যবসা শুরু করা সম্ভব। বড় আকারে মসলার ব্যবসা শুরু করতে নিজের কাছে যদি প্রয়োজনীয় পুঁজি না থাকে তবে ঋণ দানকারী ব্যাংক বা বেসরকারী প্রতিষ্ঠান (এনজিও) থেকে শর্ত সাপেক্ষে স্বল্প সুদে ঋণ নেয়া যেতে পারে।

 

প্রয়োজনীয় উপকরণ, পরিমাণ, মূল্য ও প্রাপ্তিস্থান 

  • স্থায়ী উপকরণ 
উপকরণ  পরিমাণ  আনুমানিক মূল্য (টাকা)  প্রাপ্তিস্থান 
পাঞ্চ  মেশিন ১টি ১৪০০-১৫০০ যন্ত্রপাতি বিক্রির দোকান
দাঁড়িপাল্লা ১ সেট ১৪০-১৫০ হার্ডওয়ারের দোকান
প্লাস্টিকের গামলা (বড়) ১টি ১২০-১৫০ তৈজসপত্রের দোকান
চামচ (বড়) ১টি ৪০-৪৫ তৈজসপত্রের দোকান
                                   মোট=১৭০০-১৮২৫ টাকা 

তথ্য সূত্র :মাঠকর্ম,  চাটমোহর, পাবনা, অক্টোবর ২০০৯।

  • কাঁচামাল
উপকরণের নাম  পরিমাণ  আনুমানিক মূল্য (টাকা)  প্রাপ্তিস্থান 
মরিচ ১০ কেজি ১৭৫০-১৮০০ পাইকারী দোকান
হলুদ ১০ কেজি ১৪৫০-১৫০০ পাইকারী দোকান
জিরা ১০ কেজি ৩০৫০-৩১০০ পাইকারী দোকান
                                   মোট=৬২৫০-৬৪০০ টাকা

তথ্য সূত্র :মাঠকর্ম,  চাটমোহর, পাবনা, অক্টোবর ২০০৯।

 

গুড়া মসলা তৈরি ও প্যাকেটজাতকরণ

১ম ধাপ 

যে মসলা গুঁড়া করা হবে সেগুলো বাজারের পাইকারী দোকান থেকে কিনতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে মসলাগুলো যেন শুকনো হয়।

২য় ধাপ  

মসলাগুলো ঝেড়ে ভালভাবে পরিস্কার করে নিতে হবে। মরিচের ক্ষেত্রে বোঁটা ফেলে দিতে হবে।

৩য় ধাপ 

এরপর মসলাগুলো মিলে নিয়ে গিয়ে গুঁড়া করে আনতে হবে।

৪র্থ ধাপ 

নিদির্ষ্ট পরিমাণ গুঁড়া মসলা মেপে পলি প্রোপাইলিন প্যাকেটে ভরে পাঞ্চ মেশিন দিয়ে প্যাকেটের মুখ বন্ধ করে বাজারে বিক্রির ব্যবস্থা করতে হবে।

আনুমানিক আয় ও লাভের পরিমাণ 

  • খরচ 

মেশিনে গুঁড়া করতে খরচ হয়-

১০ কেজি হলুদ ৩০ টাকা
১০ কেজি মরিচ ৮০ টাকা
১০ কেজি জিরা ১০০ টাকা
                                                                          মোট=২১০ টাকা 

 

যন্ত্রপাতির ক্রয় বাবদ ৭-৮ টাকা
কাঁচামাল বাবদ ৬২৫০-৬৪০০ টাকা
মিলে গুঁড়া করা বাবদ ২১০ টাকা
                  মোট=-৬৫০৭-৬৬৬৮ টাকা 

তথ্য সূত্র :মাঠকর্ম,  চাটমোহর, পাবনা, অক্টোবর ২০০৯।

  • আয়  
১ কেজি হলুদ গুঁড়া বিক্রি হয়=১৯৫ টাকা

১০ কেজি হলুদ গুঁড়া বিক্রি হয়=১৯৫০ টাকা

১ কেজি মরিচ গুঁড়া বিক্রি=২৭৫ টাকা

১০ কেজি মরিচ গুঁড়া বিক্রি হয়=২৭৫০ টাকা

১ কেজি জিরা গুঁড়া বিক্রি হয়=৪০০ টাকা

১০ কেজি জিরা গুঁড়া বিক্রি হয়=৪০০০ টাকা

১০ কেজি হলুদ, মরিচ ও জিরা গুঁড়া বিক্রি হয়=৮৭০০ টাকা 

তথ্য সূত্র :মাঠকর্ম,  চাটমোহর, পাবনা, অক্টোবর ২০০৯।

 

  • লাভ  
৩০ কেজি গুঁড়া মসলা থেকে আয় ৮৭০০ টাকা
৩০ কেজি গুঁড়া মসলা বাবদ ব্যয় ৬৫০৭-৬৬৬৮ টাকা
                         লাভ=২১৯৩-২০৩২ টাকা 

অর্থাৎ ২০৩২-২১৯৩ টাকা লাভ করা সম্ভব। তবে প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম কম বা বেশি হওয়ার সাথে সাথে লাভের পরিমাণও কম বা বেশি হতে পারে।

তথ্য সূত্র :মাঠকর্ম,  চাটমোহর, পাবনা, অক্টোবর ২০০৯।

  • সতর্কতা 
  1. যে মসলা গুলো গুঁড়া করা হবে সেগুলো যেন দোষমুক্ত হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

 

কাঁচামাল ভালভাবে রোদে শুকিয়ে মেশিনে গুঁড়া করে উন্নত উপায়ে প্যাকেটজাত করতে পারলে এ ব্যবসার মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব।

সচরাচর জিজ্ঞাসা 

প্রশ্ন ১ : গুঁড়া মসলার ব্যবসা শুরু করতে কি পরিমাণ মূলধন প্রয়োজন ? 

উত্তর : আনুমানিক ১০০০০-১২০০০ টাকা মূলধন নিয়ে গুঁড়া মসলার ব্যবসা শুরু করা সম্ভব।

প্রশ্ন ২ : গুঁড়া মসলা কিভাবে বিক্রি করা সম্ভব ? 

উত্তর :  মুদি দোকানগুলোতে গুঁড়া মসলা পাইকারী দরে বিক্রি করা যেতে পারে।

প্রশ্ন ৩ : গুঁড়া মসলা কিভাবে বিক্রি করা যায় ? 

উত্তর : উন্নত উপায়ে মসলা গুঁড়া করে পাইকারি বা খুচরা দরে বাজারে বিক্রি করা যেতে পারে।

Advertisements

মাশরুমের চাষ

মাশরুম একটি পুষ্টিকর সবজি। সাধারণত: সবজির মতো মাশরুম মাটিতে জন্মায় না। এটি নিম্নশ্রেণীর ছত্রাক জাতীয় পরজীবী উদ্ভিদ। জীবন ধারনের জন্য এরা জৈবিক বস্তু (Organic mattor) থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি গ্রহণ করে। আশির দশকের শুরুতে এদেশে পরীক্ষামূলকভাবে মাশরুম চাষ শুরু হয়। সে সময় সাভারে অবস্থিত কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আওতাধীন ২টি কালচার সেন্টারে একটি মাশরুম স্পন উৎপাদন স্থাপিত হয়। উক্ত কেন্দ্রের উদ্যোগে আশে পাশের চাষীদের স্পর্ন সরবরাহ ও মাশরুম উৎপাদনে কারিগরী সহায়তা প্রধানের মাধ্যমে মাশরুমের চাষ শুরু হয়। বর্তমানে সাভারে মাশরুম সেন্টার উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় মাশরুম উৎপাদন কার্যক্রম আরো বিস্তারিত কাজ রয়েছে।

মাশরুমের জাত

প্রকৃতিতে মাশরুমের কয়েক হাজার জাত রয়েছে যার মধ্যে ৮-১০টি জাতের বাণিজ্যিক চাষাবাদ হয়ে থাকে। বাংলাদেশের তাপমাত্রা ও আপেক্ষিক আদ্রতা মাশরুম চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। বাংলাদেশের চাষপযোগী মাশরুমের জাতগুলো হলো-

ক্রমিক নং   সাধারণ নাম    ইংরেজী নাম
১    ঝিনুক মাশরুম    Oyster mushroom
২    দুধ মাশরুম    Milky mushroom
৩    কান মাশরুম    Wood ear mushroom
৪    বোতাম মাশরুম   Button mushroom
৫    তাপ সহনশীল বোতাম মাশরুম    Heat tolerate button mushroom
৬    শিতাকে মাশরুম  Shitake mushroom
৭    খড় মাশরুম     Paddy straw mushroom
চাষ পদ্ধতি (ঝিনুক মাশরুম)
  • বাংলাদেশে বর্তমানে বানিজ্যিকভাবে ঝিনুক মাশরুমের চাষই বেশি প্রচলিত। চাষীদের জন্য স্পন ভর্তি সাবষ্ট্রেট সহ উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত পিপি ব্যাগ সরবরাহ করা হয়। সরবরাহকৃত এসব ব্যাগ থেকে চাষীরা ফসল উৎপাদন করে থাকেন। মোটামুটি ৫০০ গ্রাম ওজনের এসব ব্যাগের ভিতরে উৎপাদন হচ্ছে-
১.    কাঠের গুড়া = ৬৪%
২.    গমের ভূষি = ৩২%
৩.    ধানের তুষ =৪%
  • উক্ত মিশ্রণের সাথে সামান্য পরিমাণ চুন এবং পানি মিশানো হয়। প্যাকেটগুলো খড়ের চাষাবিশিষ্ট বাঁশের বেড়া ও পাকা মেঝের ঘরে কাঠ ও বাঁশের তাকে সারি করে সাজিয়ে রাখতে হবে।
  • অত:পর ব্যাগের দুপাশে অধর্চন্দ্রাকৃত্রির করে কেটে কাটা অংশটির খানিকটা চেছে ফেলে দিতে হবে।
  • চাছার পর ব্যাগটি পরিষ্কার পানিতে ২১-৩০ মিনিট ডুবিয়ে রাখতে হবে।
  • ব্যাগটি অত:পর পরিষ্কার ফ্লোর বা তারের জালির ওপর আধাঘন্টা সময় উল্টে রাখতে হবে যাতে ভেতরের বাড়তি পানি ঝড়ে যায়।
  • এবার চাষঘরে কাঠের ব্যাক বা বাঁশের মাচায় পরিমিত বিছিয়ে ব্যাগগুলো তার ওপর সারিবদ্ধভাবে রাখতে হবে।
  • বাইরের তাপমাত্রা কম থাকলে ব্যাগের উপর পলিথিন ঢেকে দিয়ে ২/৩ দিন রাখতে হবে যাতে ব্যাগের ভেতরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। এ সময় ঘরের আর্দ্রতা ৮০% এবং তাপমাত্রা ২৫-৩০০ সে. হওয়া দরকার। ধারনা দিয়ে-
  • ব্যাগগুলোতে নিয়মিত পানি স্প্রে করতে হবে।
  • পলিথিন ডাকা থাকলে ৩/৪ বার ১০-১৫ মি. সময় ডাকনা সরিয়ে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করে দিতে হবে।
  • ২/৩ দিন পর ব্যাগের কাটা অংশ দিয়ে সাদা পিন সদৃশ অংশ দেখা যায়। আরো ২/৩ দিন পর মাশরুম বড় হলে সংগ্রহ করতে হবে।
  • অন্য দুপাশ থেকে অত:পর একইভাবে চেছে দিয়ে পানি স্প্রে করলে নতুনভাবে মাশরুম উৎপাদন হবে।
  • একটি মাশরুমের ব্যাগ থেকে ৩/৪ বার ফসল তোলা যায়।

পোকা-মাকড় ও রোগবালাই দমন
মাশরুমে মাছির প্রকোপ দেখা দিতে পারে। এজন্য ম্যালাথিয়ন (০.১%) স্প্রে করা যেতে পারে। এছাড়া ফর্মালিডিহাইডে (৪%) তুলা ভিজিয়ে সানস্ট্রেটে ঘসে দিলে সবুজ বাদামী বা নীল মোল্ড দূর হবে।

এক পুকুরে হাঁস আর মাছ চাষ

বর্তমানে পুকুর হচ্ছে মাছের অন্যতম উৎস। বাণিজ্যিকভাবে যারা আমাদের দেশে অনেকে মাছ চাষের সাথে সম্পৃক্ত। আবার অনেকের প্রধান পেশা মাছ চাষ। বর্তমানে মাছ লাভজনক একটি প্রযুক্তি। মৎস্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাদের মতে, পুকুরে হাঁস ও মাছের সমন্বিত চাষ পদ্ধতি অবলম্বন করলে খুব সহজে বেশি লাভবান হওয়া সম্ভব। ঢাকার আশপাশের এলাকা- ধামরাই, সাভার, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জসহ দেশের অনেক স্থানে হাঁস ও মাছের সমন্বিত চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এ পদ্ধতিতে অনেক সুবিধা রয়েছে যেমন- এর জন্য পুকুরে তেমন বাড়তি সার ও খাদ্য দিতে হয় না। মাছ দ্রুত বৃদ্ধি পায়। একই সাথে মাছ, হাঁসও ডিম থেকে সমানে আয় করা যায়। লিখেছেন হাসানুর রহমান খান বকুলযেভাবে শুরু করতে পারেন: এ প্রকল্পটি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে চাইলে আপনাকে ৪০-৫০ শতাংশ আয়তনের একটি পুকুর লাগবে। ১০০- ১৫০টি হাঁস, ১৫০০-১৮০০টি মাছের পোনা, হাঁসের ঘর। এসব পরিকল্পিতভাবে করলে ভালো হয়। পাহারাদারের ঘরটি হাঁসের ঘরের দক্ষিণ পাশে হলে ভালো হয়।
পুকুর তৈরি করুন নিখুঁতভাবে: আপনাকে সঠিকভাবে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে হলে পুকুরের চারপাশের পাড় ভালোভাবে মাটি দিয়ে উঁচু করে বাঁধতে হবে। পুকুরের তলদেশ সংস্কার করতে হবে। পুকুরে চুন প্রয়োগ করতে হবে প্রতি শতকে ১ কেজি হারে। চুন প্রয়োগের পর পানি সরবরাহ করতে হবে। মনে রাখবেন চুন প্রয়োগের ২-৩ সপ্তাহ পর মাছ ছাড়তে হবে। পুকুরে কোনো আগাছা রাখা যাবে না, এমনকি পানা থাকলেও তা পরিষ্কার করে দিতে হবে। পুকুরে পানি কমানো বা বাড়ানোর ব্যবস্থা থাকতে হবে।

কোন জাতের মাছ নির্বাচন করবেন: হাঁস চাষ করায় পুকুরে মাছের বিভিন্ন প্রকার খাবারের সৃষ্টি হয়। এজন্য ভিন্ন ভিন্ন খাদ্যাভ্যাসের বিভিন্ন জাতের মাছের চাষ করা উচিৎ। তাছাড়া বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ভিন্ন ভিন্ন স্তরের খাবার খায়। মাছের প্রজাতির মধ্যে সিলভার কার্প ও কাতলা-পানির উপরের স্তরে খাদ্য খায় গ্রাস কার্প-পুকুরের জলজ আগাছা ও ঘাস খায়, কমন কার্প- পুকুরে তলদেশের খাদ্য খায় বলে জানালেন মৎস্য বিশেষজ্ঞরা। এছাড়াও মৃগেল, কালিবাউশ, মিরর কার্প, সরপুঁটিসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের চাষ করতে পারেন।
মাছের সম্ভব্য সংখ্যা: প্রতি শতকের জন্য সিলভার কার্প- ১০-১৫টি, কাতলা/ব্রিগেড- ৬টি, মৃগেল ৬টি, কালিবাউশ ৩টি, গ্রাস কার্প ৩টি, সরপুঁটি ৭-১০টি।
হাঁসের ঘর তৈরি: পুকুর পাড়ে কিংবা পুকুরের ওপর ঘরটি তৈরি করতে হবে। ঘরের উচ্চতা ৫-৬ ফুট হলে ভালো হয়। ঘর তৈরিতে বাঁশ, বেত, টিন, ছন, খড় ইত্যাদি ব্যবহার করা যেতে পারে। ঘরটি খোলামেলা হতে হবে এবং সাপ ও ইঁদুর থেকে মুক্ত রাখতে হবে।
উন্নত হাঁসের জাত:_ হাঁসের জাত নির্বাচন করার ক্ষেত্রে যে জাতের হাঁস বেশি ডিম দেয় সে জাতের হাঁস নির্বাচন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ইন্ডিয়ান রানার ও খাকি ক্যাম্পেবেল নির্বাচন করা যেতে পারে। এ জাতের হাঁস ৫ মাস বয়স থেকে ২ বছর পর্যন্ত ডিম দেয়। বছরে ২৫০- ৩০০টি ডিম দিয়ে থাকে।
হাঁসের খাদ: শুকনা খাদ্য না দিয়ে হাঁসকে সবসময় ভেজা খাদ্য দেয়া উচিত। খাদ্যে আমিষের পরিমাণ ডিম দেয়া হাঁসের ক্ষেত্রে ১৭-১৮ শতাংশ ও বাচ্চা হাঁসের ক্ষেত্রে ২১ শতাংশ রাখা উচিত।
সম্ভব্য আয়-ব্যয়: ৪০-৫০ শতাংশের একটি পুকুরে ১০০টি হাঁসের জন্য এ প্রকল্প শুল্ক করলে সব মিলে খরচ দাঁড়াবে ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা। সঠিক পরিচর্যা আর যত্ন নিতে পারলে প্রথম বছরে যাবতীয় ব্যয় বাদ দিয়ে ৬০-৯০ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব হতে পারে।
কোথায় পাবেন হাঁসের বাচ্চা: দৌলতপুর হাঁস খামার, নারায়ণগঞ্জ হাঁস প্রজনন কেন্দ্রসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত হাঁস-মুরগির খামার ও বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের নিকট থেকে হাঁস বা হাঁসের বাচ্চা সংগ্রহ করতে পারেন।
কোথায় পাবেন মাছের পোনা: এশিয়ার বিখ্যাত হালদা নদীর পোনা সবচেয়ে ভালো। তবে আপনার কাছে সরকারি মৎস্য পোনা উৎপাদন খামার থেকে মাছের পোনা সংগ্রহ করতে পারেন।
রোগমুক্ত, উন্নত জাতের হাঁস আধুনিক পদ্ধতি ও সঠিক নিয়ম অনুযায়ী চাষ করুন। যে কোনো পরামর্শের জন্য আপনার উপজেলা বা জেলা মৎস্য ও পশুসম্পদ অফিসে যোগাযোগ করতে পারেন।

যাইযাইদিন পত্রিকায় প্রকাশিত কলাম